বিশ্বকাপে 'বন্ধুত্বে'র বার্তা রাশিয়ার
রাশিয়া মানে শত্রুতা, এই ধারণাটাই বদলে দিতে চাইছেন তাঁরা।

অমৃতাংশু ভট্টাচার্য
এক একটা দেশের কাছে এক একটা বিশ্বকাপের মানে এক এক রকম। কেউ চায় অর্থনীতি চাঙ্গা করতে, আবার কেউ গুছিয়ে নিতে চায় পরিকাঠামো। কারও কাছে বিশ্বকাপ মানে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন। কিন্তু, রাশিয়ার কাছে বিশ্বকাপটা একেবারেই অন্যরকম এরকটা সুযোগ নিয়ে এসেছে। যে সুযোগটা পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই অপেক্ষা করছিল কমিউনিজম-উত্তর রাশিয়ার মানুষ।
রাশিয়া মানেই এতদিন ছিল বিশ্বের কাছে একটা বন্ধ দরজা। রাশিয়া মানেই পশ্চিম দুনিয়ার বর্ণ নয়, রসকষহীন কঠোর শত্রুতা। এই ধারণাটাই বদলে দিতে চান এখানকার মানুষ। এমনিতেই রাশিয়ায় ইংরেজি জানান মানুষের সংখ্যা খুব কম। রাস্তাঘাটে ৫০ জনকে জিজ্ঞাসা করলে একজনকে পাওয়া যাবে যিনি বলবেন, "আমার ইংরেজিটা খুব একটা ভাল নয়।" আর বাকি ৪৯ জনের কাছ থেকে একটাই জবাব আসবে "নুয়েত্" মানে, না!
আরও পড়ুন - রাতের 'সাদা আলোয়' ঝলমলে রাশিয়ার বিশ্বকাপ
তবু কাজান থেকে সেন্ট পিটার্সবার্গ বার বার বুঝতে চেয়েছি বিশ্বকাপ নিয়ে এখানকার মানুষের ভাবনা-চিন্তার ধরণটা। প্রত্যেকেই বোঝাতে চেষ্টা করেছেন তাঁদের যেরকম ভাবে দেখা হয়, আসলে তাঁরা তেমন নয়। রাশিয়া মানে শত্রুতা, এই ধারণাটাই বদলে দিতে চাইছেন তাঁরা। গোটা বিশ্বকে তাঁরা জানাতে চান, আমরাও বন্ধুত্ব করতে জানি। আমরা আদৌ গোমরামুখো 'বোরিং' একটা জাতি নই। আমরাও পশ্চিম দুনিয়ার মতোই হাসিখুশি, খোলামেলা। এই বার্তাটা ছড়িয়ে গেলে আখেরে রাশিয়ারই লাভ হবে বলে মনে করেন এখানকার মানুষজন। তাই রাশিয়ার কাছে এই বিশ্বকাপটা ফুটবল মাঠে নয়, মাঠের বাইরে বিশ্বজয়ের একটা সুযোগ।