নিউটাউনে কোটায় প্লট বণ্টনের বিজ্ঞপ্তি খারিজ হাইকোর্টের
বাম জমানায় রাজারহাট নিউটাউনে হিডকোর চেয়ারম্যান কোটায় প্লট বণ্টনের বিজ্ঞপ্তি খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই কোটায় বিলি হওয়া প্লটমালিকদের নামের পূর্ণাঙ্গ তালিকাও প্রকাশেরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। কাঠগড়ায় তত্কালীন আবাসনমন্ত্রী তথা হিডকো চেয়ারম্যান গৌতম দেব।

ওয়েব ডেস্ক: বাম জমানায় রাজারহাট নিউটাউনে হিডকোর চেয়ারম্যান কোটায় প্লট বণ্টনের বিজ্ঞপ্তি খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই কোটায় বিলি হওয়া প্লটমালিকদের নামের পূর্ণাঙ্গ তালিকাও প্রকাশেরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। কাঠগড়ায় তত্কালীন আবাসনমন্ত্রী তথা হিডকো চেয়ারম্যান গৌতম দেব।
২০১১ সালে রাজ্যে বিধানসভা ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হয় পয়লা মার্চ। ঠিক তার আগের দিনই হিডকোর তরফে রাজারহাট নিউটাউন উপনগরীতে প্লট বণ্টনের এক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
প্লট কাহিনি
-------
১৫৫টি রেসিডেন্সিয়াল এবং ৪৩টি বাণিজ্যিক প্লটসহ মোট ১৯৮টি প্লট বণ্টনের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়
এর মধ্যে ১৭০টি প্লটই বণ্টন করা হয় তত্কালীন হিডকো চেয়ারম্যান গৌতম দেবের কোটায়
২০০০ সালে হিডকো তৈরি হওয়ার পর রাজারহাট নিউটাউনের পাঁচ শতাংশ জমি চেয়ারম্যান কোটায় বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০১১ সাল পর্যন্ত হিডকোর চেয়ারম্যানের কোটায় বহু আইএএস, আইপিএস অফিসার, বিচারপতি, বিচারক , রাজনৈতিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নানা সময়ে জমির প্লট পেয়েছেন। ক্ষমতায় আসার পরই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে চিহ্নিত করে হিডকোর ওই বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে তৃণমূল সরকার।
১৭০ জনের মধ্যে একষট্টিজন প্লটমালিক সরকারের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। চার বছর পর বুধবার সেই মামলায় রাজ্য সরকারের পক্ষেই রায় দিল হাইকোর্ট। হিডকোর ওই বিজ্ঞপ্তি বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্ত বৈধ বলে জানিয়েছেন বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারপতির আরও নির্দেশ।
বিচারপতির নির্দেশ
২০০০ সাল থেকে যাঁরা ওই কোটায় প্লট পেয়েছেন, তাঁদের নামের তালিকা হিডকোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে
একই তালিকা দুটি বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রেও প্রকাশ করতে হবে
চেয়ারম্যানের কোটায় জমি বণ্টনের এই প্রক্রিয়া নিয়ে বিচারপতি রীতিমতো কড়া মন্তব্য করেছেন।
আদালত মনে করে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত অস্বচ্ছ, অবৈধ এবং চেয়ারম্যানের সামন্ততান্ত্রিক মনোভাবের পরিচয়। শুধু ঘুষ দিলেই দুর্নীতি হয় না। রাজনৈতিক রঙের ভিত্তিতে যে দুর্নীতির জন্ম হয়, তা জনমানসে সামাজিক সাম্যের ভাবনার প্রতিই অনাস্থা তৈরি করে।
চেয়ারম্যানের এমন স্বেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে হিডকোর বোর্ড অফ ডিরেক্টরসের সদস্যরা কেন নীরব ছিলেন, তাও বিস্ময়কর।
যেহেতু পুরো প্রক্রিয়াটাই অস্বচ্ছ, তাই ওই বিজ্ঞপ্তির আগেকার প্লট বন্টন নিয়েও হিডকো ব্যবস্থা নিতেই পারে।
রজনৈতিক মহলের ধারণা, আদালতের এই রায় রাজ্য-রাজনীতিতে ঝড় তুলবে। সেই প্রসঙ্গেও বিচারপতির মন্তব্য নিঃসন্দেহে তাত্পর্যপূর্ণ।
বিচারক বলেন, জানি এই রায় নিয়ে রাজনীতি হবে। বর্তমান শাসকদলকেও মনে করিয়ে দিতে চাই, তাদের কাজকর্মও কিন্তু ভবিষ্যতে একই মানদণ্ডে বিচার করা হবে। আদালতের এই রায় নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর কোন পথে মোড় নেয়, সবার নজর এখন সেদিকেই।